Home Blog Page 4

বিশাল জয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

0

অবশেষে ফুরোলো অপেক্ষার পালা, মিলল প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ। এতদিন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাতটি ওয়ানডে জিতলেও, সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার বিশ্বকাপ সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজেই লঙ্কানদের হারিয়ে দিলো টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচে ২৫৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমানদের বোলিংয়ে এসেছিল ৩৩ রানের জয়। আজ (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিকুর রহীমের সেঞ্চুরিতে ভর করে স্কোরবোর্ডে দাঁড়ায় ২৪৬ রানের সংগ্রহ। যেখানে মুশফিকের একার সংগ্রহই ১২৫ রান।

আগেরদিনের চেয়ে ১১ রান কম করলেও, আজকের জয় আরও বড় ব্যবধানে। শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও ডিএল মেথডে টাইগারদের জয় এলো ১০৩ রানে। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ফের উজ্জ্বল মিরাজ-মোস্তাফিজরা। তাদের বোলিং তোপে পরিবর্তিত লক্ষ্য নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪১ রানে থেমে গেছে লঙ্কানরা। বাংলাদেশ পেয়েছে ১০৩ রানের বিশাল জয়।

এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচ সিরিজের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেলো বাংলাদেশের। শুক্রবার শেষ ম্যাচটিতে থাকবে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নবম সিরিজ খেলতে প্রথমবার জিতল বাংলাদেশ। আগের ৮ সিরিজে ছয়টি জিতেছিল লঙ্কানরা, ড্র হয় বাকি দুইটি।

শুধু লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ জেতাই নয়, দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে উঠে গেলো বাংলাদেশ। যেখানে ৮ ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০ পয়েন্ট। ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে ৪০টি করে পয়েন্ট। শেষ ম্যাচ জিতলে তাদের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের করা ২৪৬ রানের জবাবে শুরু থেকে একবারের জন্যও ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। বোলিং ইনিংসের শুরু থেকেই সফরকারীদের চেপে ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই দুই অঙ্কে পৌঁছলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা। এছাড়া পাথুম নিসাঙ্কা ২০, আশেন বান্দারা ১৫, কুশল পেরেরা ১৪, ধনঞ্জয় ডি সিলভা ১০ ও দাসুন শানাকা করেন ১১ রান। তাদের সর্বোচ্চ রানের জুটিটি হয় দ্বিতীয় উইকেটে। যেখানে ২৯ রান যোগ করেন নিসাঙ্কা ও গুনাথিলাকা।

২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর লঙ্কানদের ২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম। অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে। ১৪ রান করে আউট হন পেরেরা। সে সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে অভিষেক উইকেট নিয়ে নিলেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ২৯ রানের জুটি গড়েন দানুসকা গুনাথিলাকা এবং পাথুম নিশাঙ্কা। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন গুনাথিলাকা। ২৪ রান করে ফিরে যান তিনি।

দলীয় ৭১ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দেন পাথুম নিশাঙ্কা। তিনি করেন ২০ রান। উইকেট যে পড়া শুরু হলো এরপর নিয়মিত বিরতিতে পড়ছেই।

৭৭ রানের মাথায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কুশল মেন্ডিসকে বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ বলে ১৫ রান করেন তিনি। কুশল মেন্ডিস রিভিউ নিয়েছিলেন বাঁচার আশায়। কিন্তু আল্ট্রা এডজ করে দেখা গেলো ব্যাটে লাগেনি। বল সামনের প্যাডে আঘাত করে এবং সেটা ছিল পুরো মিডল স্ট্যাম্প বরাবর। আম্পায়ারের আঙ্গুল তুলতে কোনো দ্বিধা হয়নি।

ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও এলবিডব্লিউর শিকার হন সাকিব আল হাসানের হাতে। ২১ বলে ১০ রান করেন তিনি। ফিরে যান দলীয় ৮৯ রানের মাথায়। ১০৪ রানের মাথায় ফেরেন দাসুন সানাকা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। মিডউইকেটে ক্যাচটি ধরতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি রিয়াদকে।

ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ফিরে যান সেই মিরাজের বলেই। সরাসরি বোল্ড হয়ে। ১৪ বলে ৬ রান করেন তিনি। ১১৪ রানের মাথায় পড়ে সপ্তম উইকেট। ১১৬ রানের মাথায় ফিরে যান আসেন বান্দারা। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তিনি ক্যাচ দেন মিডউইকেটে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১১৬ রানে বিদায় নেয় অষ্টম উইকেট।

এরপর ৩৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে পতন ঘটে নবম উইকেটের। তার বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লক্ষণ সান্দাকান। ৩৮ ওভারে ১২৬ রানে থাকা শ্রীলঙ্কা যখন পরাজয়ের শঙ্কায় ভুগছিল, তখনই নামে বৃষ্টি।

তৃতীয় দফা বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে ৪৫ মিনিট। এরপর তাদের সামনে ২৪৫ রানের লক্ষ্য বেধে দেয়া হয় ৪০ ওভারে। শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়নি আর লঙ্কানরা। থেমেছে সেই ৯ উইকেটে ১৪১ রানে। শেষ মুহূর্তে ইসুরু উদানা ১৭ বলে ১৮ রান করে শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন।

লঙ্কানদের বেঁধে রাখা বোলিংয়ে ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন মেহেদি মিরাজ। আগের ম্যাচে ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচটিতে ৩ উইকেট মোস্তাফিজ আজও শিকার করেছেন ৩ উইকেট। ৬ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়েছেন তিনি। মূলতঃ অনুর্ধ্ব-১৯ দলে থেকেই বন্ধুতে পরিণত হওয়া মিরাজ-মোস্তাফিজের জুটিতেই চোখে সর্ষেফুল দেখতে শুরু করে লঙ্কানরা।

এছাড়া বাঁ-হাতি স্পিনার ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান নিয়েছেন ২ উইকেট। ৯ ওভারে ৩৮ রান দেন তিনি। অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম উইকেটের সূচনা করে দিলেও শেষে আর তিনি উইকেট পাননি। কনকাসন সাব হিসেবে খেলতে নাম তাসকিন আহমেদ ৮ ওভার বল করেছেন বেশ নিয়ন্ত্রিতভাবে। ২৭ রান দিয়েও কিন্তু উইকেট পাননি তিনি।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৫ রানের মধ্যে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান সাজঘরের পথ ধরেন।

অথচ ইনিংসের প্রথম ওভারে ইসুরু উদানাকে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তামিম। কিন্তু দুশমন্ত চামিরার পরের ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

ওভারের প্রথম বলেই দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে তামিমকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন চামিরা। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। শ্রীলঙ্কা রিভিউ নিয়ে নেয়, তাতেই বাজিমাত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ফেরেন ৬ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলে।

ওই ওভারেরই চতুর্থ বলে চামিরার আরেকটি ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত হন সাকিব আল হাসান। এবার আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেন, আউট বুঝতে পেরে রিভিউ নেননি সাকিব (০)।

অফফর্মে থাকা লিটন আজ বেশ দেখেশুনে খেলছিলেন। কিন্তু ২৫ রানে পৌঁছার পর ভুল শট খেলে বসেন। সান্দাকানকে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন ডানহাতি এই ওপেনার। এরপর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১০ রানেই আউট হন এই অলরাউন্ডার।

দলীয় ৭৪ রানেই ৪ উইকেট হারানোর পর প্রথম ম্যাচের মতো আবারও দলের হাল ধরেন ব্যক্তিগত সম্পর্কে দুই ভায়রা ভাই মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৮৭ রান। হাফসেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও ৪১ রানে সাজঘরে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আফিফ হোসেন ধ্রুব (৯ বলে ১০) ও মেহেদি হাসান মিরাজ (২ বলে ০)। ফলে সকল দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় মুশফিকের কাঁধে। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ঠিক পথেই ছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছয় ম্যাচের মধ্যে তুলে নেন পঞ্চম ফিফটি।

কিন্তু তার সেঞ্চুরিটি হওয়ার আগেই দুই দফায় বন্ধ হয় খেলা। প্রথমে ৪২তম ওভারের প্রথম বল হওয়ার পর থেমে যায় খেলা। তখন ২৫ মিনিট বন্ধ থাকার আবার শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং। বৃষ্টি নামার আগে খেলা ৪১.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করে বাংলাদেশ দল, মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৮৫ রানে।

পরে দ্বিতীয়বার বৃষ্টি নামার আগে মাত্র ১৪ বল খেলা হয়। সেই ১৪ বলে বাংলাদেশ করে ১৭ রান, মুশফিক পৌঁছে যান সেঞ্চুরির আরও কাছে। দুই চারের মারে পৌঁছে যান ৯৬ রানে। অপরপ্রান্তে সাইফউদ্দিন খেলছিলেন ৮ রান। এ দফায় খেলা বন্ধ থাকে ৩৫ মিনিট।

দ্বিতীয় দফা বিরতির পর সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে একদমই সময় নেননি মুশফিক। চামিরার করা ৪৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। সেঞ্চুরি পূরণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হন মুশফিক। এ সময়ের মধ্যে ১২ বলে করেন ২২ রান।

শেষদিকে অপরপ্রান্তে সঙ্গী না থাকায় একাই টেনে নিতে হয় দলকে। অষ্টম উইকেটে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে জুটি হয় ৪৮ রানের। রানআউট হওয়ার আগে সাইফ করেন ১১ রান। তিনি ফিরে যাওয়ার পর দলের ইনিংস একাই টেনে নেন মুশফিক। যিনি পনেরো ইনিংস পর সেঞ্চুরি করে দলকে এনে দিয়েছেন লড়াই করার মতো সংগ্রহ।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন লাকশান সান্দাকান ও দুশমন্ত চামিরা। এছাড়া ইসুরু উদানার শিকার ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ২৪৬/১০, ৪৮.১ ওভার (মুশফিকুর রহীম ১২৫, মাহমুদউল্লাহ ৪১, লিটন দাস ২৫, তামিম ইকবাল ১৩, সাইফউদ্দিন ১১, আফিফ হোসেন ১০, মোসাদ্দেক হোসেন ১০, সাকিব আল হাসান ০, মিরাজ ০, শরিফুল ইসলাম ০, মোস্তাফিজ ০*; দশমন্তে চামিরা ৩/৪৪, লক্ষ্মণ সান্দাকান ৩/৫৪, ইসুরু উদানা ২/৪৯, হাসারাঙ্গা ১/৩৩)।

শ্রীলঙ্কা : (বৃষ্টি আইনে ৪০ ওভারে ২৪৫ লক্ষ্য) ১৪১/৯, ৪০ ওভার (গুনাথিলাকা ২৪, পাথুম নিশাঙ্কা ২০, উদানা ১৮*, কুশল মেন্ডিস ১৫, আশেনা বান্দারা ১৫, কুশল পেরেরা ১৪; মোস্তাফিজুর রহমান ৩/১৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩/২৮, সাকিব আল হাসান ২/৩৮, শরিফুল ইসলাম ১/৩০)।

ফল : বাংলাদেশ ১০৩ রানে জয়ী (ডি/এল মেথড)।
ম্যাচ সেরা : মুশফিকুর রহীম।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টপকে শীর্ষে বাংলাদেশ

0

সিরিজ শুরুর আগে পূর্ণ ত্রিশ পয়েন্টের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই মিশনে এখনও পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই পেয়েছে সহজ জয়। যা এনে দিয়েছে ২০ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচ জিতলে বিশ্বকাপ সুপার লিগের মূল্যবান ৩০ পয়েন্ট পাবে তামিম ইকবালের দল।

তবে শেষ ম্যাচের আগেই অন্য এক সুসংবাদ পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতেই সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে গেছে তারা। সুপার লিগে নিজেদের আট ম্যাচ শেষে পাঁচ জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫০ পয়েন্ট।

শীর্ষে ওঠার পথে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে টাইগাররা। চলতি সিরিজ শুরুর আগে সমান ৪০ পয়েন্ট ছিল ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার। ভালো নেট রানরেটের সুবাদে এক নম্বরে ছিল ইংল্যান্ড। পরের দুই স্থানে ছিল পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া।

এ তিন দলের পরে সমান ৩০ পয়েন্ট ছিল বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু নেট রানরেটের কারণে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। তারাই এখন পরপর দুই জয়ে ৫০ পয়েন্টের সুবাদে উঠে গেছে সবার ওপরে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতে সুপার লিগের যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ০-৩ ব্যবধানে হেরে এ যাত্রায় লাগে বড় ধাক্কা। ঘরের মাঠে ফিরে লঙ্কানদের পরপর দুই ম্যাচে হারিয়ে কক্ষে ফিরল বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ সুপার লিগে সবার নিচে অবস্থান শ্রীলঙ্কার। তারা পাঁচ ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায়নি। উল্টো দুই ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের নামের পাশে রয়েছে মাইনাস ২ পয়েন্ট। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সুপার লিগে প্রতিটি স্লো ওভার রেটের কারণে কাটা হয় ১টি করে পয়েন্ট।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও সেরা মুশফিক-মিরাজ

0

ঠিক আগের ম্যাচেরই পূনরাবৃত্তি যেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ৮৪ রান করেছিলেন মুশফিক। বল হাতে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরনী মঞ্চে উঠলেন দু’জনই। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। আর ম্যাচের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার ছিলেন মিরাজ।

দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেও ঠিক একই চিত্র। ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে দাঁড়িয়ে মুশফিক। তার পাশে মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের পুরস্কার হাতে দাঁড়িয়ে মিরাজ। দু’জনের এই ছবিটা যেন একটি ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখার মত। কারণ, তাদের পারফরম্যান্সেই তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এলো প্রথম সিরিজ জয়।

আজ বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামার পর টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখনই ত্রাতার ভুমিকায় অবতীর্ণ হন মুশফিক। ঠিক আগের ম্যাচের মত। গত ম্যাচে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন। এবার আর ভুল করলেন না। ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ১২৫ রান করে আউট হন মুশফিক।

তার অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাধে ২৪৬ রানে ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই অভিষিক্ত শরিফুলের বলে প্রথম ধাক্কা খায়। কুশল পেরেরাকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। এরপর সাকিব আল হাসান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ চেপে ধরেন লঙ্কানদের। মিরাজই মূলতঃ লঙ্কান ব্যাটিংয়ের কোমর ভেঙে দেন।

১০ ওভারে দিলেন মাত্র ২৮টি রান। উইকেট নিয়েছেন তিনটি। মোস্তাফিজুর রহমানও ৩টি উইকেট নেন। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় মিরাজের ৩ উইকেটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে ম্যাচ শেষে তার হাতে আবারও উঠলো মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের পুরস্কার।

তরুণদের পারফরম্যান্স নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় বিসিবি

0

একদিনের সীমিত ওভারের ফরম্যাটে ‘পঞ্চ পান্ডবই’ ছিলেন টাইগারদের প্রধান চালিকাশক্তি। টিম বাংলাদেশের বেশীর ভাগ সাফল্যর মুল রুপরকারই সিনিয়র পাঁচজন; মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদ।

সেই ‘পঞ্চ পান্ডবের’ অগ্রজ মাশরাফি মর্তুজা এখন আর নেই। ওয়ানডে থেকে অবসর না নিয়েও এখন তিনি দলের বাইরে। অগ্রজ না থাকলেও বাকি চার সিনিয়র কিন্তু ঠিকই পারফরম করে যাচ্ছেন এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জয়ের রুপকার, নায়ক ও স্থপতি সিনিয়ররাই।

এরমধ্যে মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। আগের ম্যাচে ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলার পর আজ ২৪ মে মঙ্গলবার শেরে বাংলায় এক সংগ্রামী শতক উপহার দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ২৫৭ রানের ৭০ ভাগের বেশি রান তিন পান্ডব- তামিম (৫২), মুশফিক (৮৪) আর রিয়াদের (৫৪)। ১০৯ রানের সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপটি ছিল দুই সিনিয়র মুশফিক ও রিয়াদের।

আজও দ্বিতীয় ম্যাচেও অনেকটা তাই। মুশফিক একা খেলেছেন ১২৫ রানের ইনিংস। আর দ্বিতীয় সর্বাধিক ৪১ রান এসেছে তারই ভায়রা ভাই, আরেক সিনিয়র সদস্য রিয়াদের ব্যাট থেকে। ৭৪ রানে ৪ উইকেট পতনের পর দল যখন গভীর সংকটে, তখন পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ও রিয়াদের ৮৭ রানের পার্টনারশিপটিই দলকে টেনে তুলেছে।

এই দুই ম্যাচের একটিতেও দলের জুনিয়র সদস্যদের কারো ব্যাট কথা বলেনি। এক কথায় কেউ কোন কার্যকর অবদান রাখতে পারেননি। ওপেনার লিটন দুই খেলায় (০ + ২৫) ২৫, আফিফ হোসেন ধ্রুব (২২*+ ১০) ৩২, মিঠুন এক ম্যাচে শূন্য আর তার বদলে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক আজ করেছেন ১০।

এই হলো দলের জুনিয়র ব্যাটারদের অবদান। এটা শুধু হতাশারই নয়। চিন্তারও কারণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফল সেনাপতি আকরাম খানও যারপরনাই চিন্তিত। তরুণদের পারফর্ম করতে না পারা এবং বড়দের পাশাপাশি কার্যকর অবদান রাখতে ব্যর্থতাকে রীতিমত ‘বিপদসঙ্কেত’ বলে মন্তব্য করেছেন আকরাম।

তার মানে তামিম, মুশফিক ও রিয়াদ-সাকিবরা ব্যাট হাতে ত্রাণকর্তার ভূমিকা না নিলে ব্যাটিংয়ের অবস্থা হবে করুন। এ অবস্থায় তরুণদের সামনে এগিয়ে আসা খুব জরুরি। তাদের ব্যাটে রান চাই। তাহলেই কেবল টিম পারফরমেন্স হবে। অন্যথায় বড়দের ওপর নির্ভরতা থেকেই যাবে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা আকরাম খান মনে করেন, ‘বাংলাদেশ দল খুবই লাকি যে, সিনিয়ররা দীর্ঘদিন ধরে ভাল পারফরম করে আসছেন। তার অনুভব, সময় এসেছে তরুণদের সামনে এগিয়ে আসার। ভাল পারফর্ম করার।’

আজ মঙ্গবার দ্বিতীয় ম্যাচ চালকালীন হোম অফ ক্রিকেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে ক্রিকেট অপস চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা খুবই ভাগ্যবান যে তিন-চারজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আমাদের অনেকদিন ধরে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। ভালো পারফর্মও করছে। তবে আমার মনে হয় সময়টা চলে এসেছে তরুনদের পারফর্ম করার।’

আকরাম আরও বলেন, ‘তরুণদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, একথা বলা কিন্তু ভুল হবে। এখন পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

তরুণদের প্রতি আকরাম খানের পরামর্শ হলো, ‘তাদের উচিৎ অভিজ্ঞদের অনুকরণ করা। আমাদের বাংলাদেশ দলে অনেক ভালো প্লেয়ার, কিন্তু যারা কোয়ালিটি প্লেয়ার আছে তাদের মতো হওয়া দরকার। সেই জায়গায় কিভাবে পৌঁছাবে সেটা সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে শেয়ার করে নেওয়া উচিত।’

আকরামের শেষ কথাটি কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তাহলো তিনি তরুণদের সামনে এগিয়ে আসতে না পারা এবং কার্যকর অবদান রাখতে না পারাকে রীতিমত চিন্তার কারণ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষায়, ‘এটা আসলে আমাদের জন্য অ্যালার্মিং।’

সিরিজ জয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

0

এক ম্যাচ হাতে রেখেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

মঙ্গলবার এক অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

অভিনন্দন বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অসাধারণ নৈপুণ্যে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সাফল্যের নতুন পালক যুক্ত করলো। শুধু তাই নয়, এই জয়ের মাধ্যমে আমরা অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডকে টপকে আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের শীর্ষস্থান অর্জন করেছি।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী দিনেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই অসাধারণ নৈপুণ্য অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশই আগামী দিনের ক্রিকেট বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।’

আগস্টেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ

0

বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। ভারত না আরব আমিরাত, কোথায় হবে? তা নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থা। তারপরও ভেতরের খবর, টিম বাংলাদেশের প্রস্তুতি ঠিক থাকবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সামনে ব্যাপক ব্যস্ত সূছি আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানালেন, ‘আপাতত আমাদের খুব ব্যস্ত সূচি। আমাদের এই সিরিজের পর ক্লাব ক্রিকেট শুরু হবে। তারপর অল্প সময়ের জন্য জিম্বাবুয়ে থেকে একটি টেস্ট কমিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি বাড়িয়েছি। তারপর জিম্বাবুয়ে থেকে ফেরার পর আমাদের অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ আছে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত না আরব আমিরাতে হবে? তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। কিন্তু আকরাম খান জানিয়ে দিলেন, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নেয়ার কথা ভাবছেন এবং সে লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজল্যান্ডের মত বড় দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে চূড়ান্ত।

এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ বাড়িয়ে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিতের কথা জানান আকরাম। বলে রাখা ভাল, অসিদের বিপক্ষে সেই ৫ ম্যাচ সিরিজটি হবে আগামী আগস্টে।

ওই সিরিজ নিয়ে আকরামের কথা, ‘ভারত পারবে কি না, না হলে শোনা যাচ্ছে দুবাইতে হতে পারে। আমরা এসব না ভেবে আমাদের প্রস্তুতি যেভাবে নেওয়ার নিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন যে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের তিনটি ছিল ম্যাচ। সেটা পাঁচটা করতে চেয়েছি এবং ওরা রাজি হয়েছে এবং আট থেকে নয় দিনের মধ্যেই ওই সিরিজের খেলাগুলো হবে। আমরা যতটা ভালো করা যায় সেই চেষ্টাই করছি।’

বার্সেলোনা নয়, জার্মানিরই দায়িত্ব নিচ্ছেন বায়ার্নের সেই কোচ

0

বায়ার্ন মিউনিখের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে দুই বছর আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন হান্সি ফ্লিক। এরপরই তার ওপর নজর পড়ে বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার। যদিও তার আগেই হান্সি ফ্লিক জার্মান ফুটবল ফেডারেশনকে মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ইউরোর তিনি জোয়াকিম লো’র পরিবর্তে জার্মানি ফুটবল দলের দায়িত্ব নেবেন।

তবুও আশায় বুক বেধেছিলেন বার্সা সভাপতি। কারণ, মৌখিক প্রতিশ্রুতি আর ফাইনাল কোনো চুক্তি নয়। রোনাল্ড কোম্যানের পরিবর্তে হান্সি ফ্লিককে পেলে খুশিই হতেন তিনি।

কিন্তু লাপোর্তার সেই আশা পূরণ হলো না। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে পাকাপাকিভাবেই চুক্তি করে ফেলেছেন ফ্লিক। ইউরোর পর সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোচের দায়িত্ব নেবেন তিনি।

আসন্ন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পরই জোয়াকিম লো’র স্থলাভিষিক্ত হবেন ফ্লিক। মঙ্গলবার জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) জানিয়ে দিল সে তথ্য। ঘরের মাঠে ২০২৪ ইউরো কাপ পর্যন্ত ফ্লিকের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করেছে জার্মানি।

এর আগে জার্মান জাতীয় দলে ২০১৪ পর্যন্ত জোয়াকিম লো’র সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন ফ্লিক। ২০১৪ বিশ্বজয়ী জার্মান দলের কৌশল তৈরির নেপথ্যে ফ্লিকেরও হাত ছিল। এবার হেড কোচ হিসেবে জার্মানির জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে খুশি বায়ার্নের সদ্য সাবেক হওয়া এই কোচ।

জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে কোচের পদে আসীন করায় ফ্লিক জানিয়েছেন, ‘সুযোগটা আমার কাছে আচমকা এসেছে। তবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করতে পারব ভেবে আমি ভীষণ খুশি। দলে ভালোমানের একাধিক ফুটবলার রয়েছে, বিশেষ করে তরুণ ফুটবলাররা। আমি তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করতে মুখিয়ে রয়েছি।’

ফ্লিক বলেছেন, পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলো নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আমাদের হাতে রয়েছে। বায়ার্নের কোচের হটসিটে মাত্র ১৮ মাস দায়িত্ব সামলে মুলার-লেভানদোভস্কিদের সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন ফ্লিক।

২০১৯-২০ মৌসুমে ফ্লিকের কোচিংয়ে ৬টি শিরোপা জেতে বাভারিয়ানরা। সাত বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বাদ পায় তারা। ২০২০-২১ মৌসুমে সেই শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও রেকর্ড বর্ধিত করে টানা নবমবার বুন্দেসলিগা জিতেছে বায়ার্ন। আর বায়ার্নে তার কোচিংয়ের অভিজ্ঞতাই জাতীয় দলের কোচিংয়ে পাথেয় হয়ে উঠবে বলে দাবি করেছেন ফ্লিক।

আইপিএলের বাকি অংশ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে

0

করোনার স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, বিসিসিআই। যে কারণে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সূচিতে পর্যন্ত পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। যদিও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড সেটা আর মানেননি।

তবে আন্তর্জাতিক সূচিগুলোর অবস্তা যাই হোক, নাছোড়বান্দা বিসিসিআই আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজনের রূপরেখা প্রায় তৈরি করতে ফেলেছে। সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে, দুবাইযতেই আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে পারে স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলো।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সেপ্টেম্বরে ১৯ থেকে ২০ তারিখ থেকে শুরু হতে পারে ২০২১ আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলি। ফাইনাল হতে পারে ১০ কিংবা ১২ অক্টোবর।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যেনতেন প্রকারে হলেও আইপিএলের বাকি অংশ শেষ করতে মরিয়া ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। আর সেকারণেই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে রুটদের বিরুদ্ধে কোহলিদের টেস্ট সিরিজের সূচি এগিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিসিআই। যাতে কোভিডের কারণে স্থগিত আইপিএলের অবশিষ্ট ৩১টি ম্যাচ আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

কিন্তু ইসিবি তাদের আবেদনে সাড়া না দিলেও আইপিএল ফের শুরু করা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলি অ্যান্ড কোং। ভারতীয় ক্রিকেটে জোর গুঞ্জন, সেপ্টেম্বরে ফের শুরু হতে চলেছে চতুর্দশ আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলি।

গত এপ্রিলে ভারতের মাটিতে শুরু হয়েছিল আইপিএলের ১৪তম আসর; কিন্তু ২৪ দিনের মধ্যেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত করে দিতে হয় ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি।

যদিও আইপিএল শেষ না হলে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে বলে প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। যে কারণে বছর শেষে হলেও আইপিএল শেষ করতে মরিয়া সৌরভরা। ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আরব আমিরাতে গত বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হবে বাকি ম্যাচগুলো।

ভারত-ইংল্যান্ড ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। এরপরের দিনই অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন থেকে সরাসরি দুবাইয়ে পাড়ি দিতে পারেন আইপিএলে খেলা ইংল্যান্ড ও ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আরব আমিরাতে তিনদিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর টুর্নামেন্ট খেলতে পারবেন বিরাট-রোহিতরা।

এই নিয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে চলেছে বিসিসিআই। ভাবা হচ্ছে, ২১ থেকে ২৫ দিনের ওপেন উইন্ডো পেলেই শেষ করা যাবে আইপিএলের বাকি ৩১টি ম্যাচ। এর মধ্যে লিগের ২৭টি এবং চারটি প্লে-অফ। লিগের ম্যাগ গুলোর মধ্যে রয়েছে ৯ থেকে ১০টি ডাবল হেডার। আর সাতটি সিঙ্গল ডে গেম।

সিরিজজয়ী ক্রিকেট দলকে কাজী সালাউদ্দিনের অভিনন্দন

0

শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

বাফুফে সভাপতির সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি অন্য সহ-সভাপতিগণ, কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ, সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, স্ট্যান্ডিং কমিটির সব কর্মকর্তাসহ বাফুফের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।

বাফুফে আশা করছে, জয়ের এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরো সুনাম বৃদ্ধি করবে।

বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে। সে সঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই প্রথম কোনো সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।

ভাগ্যক্রমে আমরা সিরিজ জিতেছি : তামিম

0

তিন ম্যাচের সিরিজটি একটি ম্যাচ হাতে রেখেই নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালরা। শুধু তাই নয়, এই প্রথম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।

তবে, যেভাবে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে, সেটা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না অধিনায়ক তামিম ইকবালের। বিশেষ করে দুই ম্যাচেই টপ অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে তো বলতে গেলে মুশফিকুর রহীম একাই ব্যাট করেছেন। মুশফিক যদি না দাঁড়াতে পারতেন, তাহলে কী অবস্থা হতো?

এ কারণেই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম, সিরিজ জয়তে আখ্যায়িত করলেন, ‘ভাগ্যক্রমে জয়’ হিসেবে। তার মতে এখনও বাংলাদেশ পারফেক্ট খেলা খেলেনি।

তিনি বলেনম ‘ভাগ্যক্রমে আমরা সিরিজ জিতে গিয়েছি। সিরিজ জিতেছি বলে খুবই খুশি। তবে আমি মনে করি এই সিরিজে আমরা এখনো পারফেক্ট খেলা খেলিনি। আশাকরি তৃতীয় ওয়ানডেতে আমরা পারফেক্ট খেলাটা খেলতে পারব।’

ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা সম্পর্কে আলোকপাত করে তামিম বলেন, ‘যদি আপনি আজকের ম্যাচের দিকে তাকান, আমরা শুরুতে বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে বসেছিলাম। এক পর্যায়ে ২০০ রানও অনেক কঠিন মনে হচ্ছিল। এরপর মুশফিক দুর্দান্ত খেলেছে, মাহমুদউল্লাহ কিছু অবদান রেখেছে। শেষমেশ আমরা কোনরকম এক স্কোর করেছি আমি বলবো। প্রথম ম্যাচের চেয়ে আজকের উইকেট ভালো ছিল।’’

বোলাররা অসাধারণ বোলিং করেছেন বলে জানালেন তামিম। যে কারণে তাদের প্রশংসা করতেও ভোলেননি অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘বোলাররা ছিল অসাধারণ। যেভাবে অভিষেকে শরিফুল ইসলাম বল করেছে, কনকাসন ইস্যুর পর তাসকিন হুট করে এসেই যেভাবে বল করেছে তা দারুণ কিছু। মিরাজ আরও একবার ব্রিলিয়ান্ট ছিল, সাকিবও ভালো করেছে। বোলিং ডিপার্টমেন্ট নিয়ে আমি খুশি, ফিল্ডিং ডিপার্টমেন্টে আমরা ভালো ফিল্ডিং করা শুরু করেছি।’

ফিল্ডিংয়ের কিছুটা উন্নতি ধরা পড়েছে তামিমেরে চোখে। তিনি বলেন, ‘সিরিজের আগে আমি বলেছিলাম আমাদের ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে। আমরা ভালো কিছু ক্যাচ নিয়েছি। তবে যেসব ক্যাচ আমরা নিতে পারিনি সেসব ক্যাচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হয়তো আজ এটার দরকার পড়েনি, তবে কাল এটার দরকার পড়তেও পারে। আমরা যদি সেসব ক্যাচও নিতে পারি তাহলে আমি খুবই খুশি অধিনায়ক হব।’