Home Blog Page 3

ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে যা করা জরুরি

0

প্রতিদিনর জামা-কাপড় পরিষ্কারের অন্যতম বিকল্প হলো ওয়াশিং মেশিন। জীবনকে আরও সহজ করে তুলেছে এই যন্ত্রটি। ময়লা কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দিলে মুহূর্তেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

তবে অনেকেই জানেন না, ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ভালো রাখবেন কীভাবে? দামী এই যন্ত্রটি একবার নষ্ট হলে পুনরায় কেনা মধ্যবিত্তদের জন্য বেশ কষ্টকর।

তাই কাপড় পরিষ্কার সময় বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ওয়াশিং মেশিন ভালো রাখতে হলে কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলুন-

>> জামাকাপড়ের ট্যাগের গায়ে লেখা থাকে কীভাবে তা কাঁচতে হবে। যদি আপনি খেয়াল না করেন; তাহলে কাপড় ও মেশিন দুটোই নষ্ট হবে।

>> ওয়াশিং মেশিন চালানোর আগে এর সেটিংস কীভাবে ঠিক করবেন, তা আগেই জেনে নিন। বেশিরভাগ জামাকাপড়ই নরমাল সেটিংসে পরিষ্কার করা যায়। তবুও অনেক জামাকাপড়ের জন্য আলাদাকরে সেটিংস সেট করতে হয়।

>> অত্যাধিক নোংরা জামাকাপড় পরিষ্কারের জন্য অযথা বেশি ডিটারজেন্ট দেবেন না। এতে আপনার ওয়াশিং মেশিনের ক্ষতি হবে। তাই পরিমাণমতোই ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন কাপড় কাচতে।

>> কাপড় কাচা হয়ে গেলে ভেজা জামাকাপড় দীর্ঘক্ষণ মেশিনের ভেতরে ফেলে রাখবেন না। প্রয়োজনে মোবাইলে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন। এতে কাচা জামাকাপড়েও গন্ধ হবে; আবার মেশিনও খারাপ হবে।

>> ওয়াশিং মেশিনে কাপড় কাচার সব কোনটি কোন ধরনের ফেব্রিক, তা খেয়াল করে তবেই ঢোকান। এর ফলে যেমন একটা পোশাকের রং অন্য পোশাকে লেগে খারাপ হয়ে যেতে পারে; তেমনই দীর্ঘদিন এমনটি করলে ওয়াশিং মেশিন দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আমসত্ত্ব তৈরির সহজ রেসিপি

0

ছোট-বড় সবাই আমসত্ত্বের স্বাদে মুগ্ধ। কাঁচা বা পাকা আম দিয়ে তৈরি আমসত্ত্ব খেতে অনেক সুস্বাদু। সাধারণত বিভিন্ন আচারের দোকান থেকেই আমসত্ত্বসহ বিভিন্ন আচার কিনে খেয়ে থাকেন অনেকেই!

শুধু বাংলাদেশেই নয় ভারতেও আমসত্ত্বের কদর অনেক। আমসত্ত্বের উল্লেখ বাংলা সাহিত্যে বহুবার পাওয়া গেছে। কাঁচা বা পাকা আম দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু আমসত্ত্ব।

চাইলে ঘরেও কিন্তু খুব সহজে তৈরি করে নিতে পারবেন মজাদার আমসত্ত্ব। এটি তৈরি করা খুবই সহজ। আমসহ সামান্য কিছু উপকরণ হাতের কাছে থাকলেই তৈরি করে নেওয়া যায় আমসত্ত্ব।

প্রথমে আমের খোসা ছাড়িয়ে ছোটো ছোটো টুকরো করে কেটে নিন। তারপর সামান্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। বেশি পানি যেন না থাকে। গরম থাকাকালীন একটি ঝাঝরির সাহায্যে সেদ্ধ আমগুলো ম্যাশ করে নিন।

তারপর একটি প্যান গরম করে তাতে সেদ্ধ আমের পাল্প ও চিনি ঢেলে দিন। ভালো করে নেড়েচেড়ে বাকি সব শুকনো উপকরণগুলো দিয়ে মাঝারি আঁচে ক্রমাগত নাড়তে হবে। এবার একটি স্ট্রিলের বড় প্লেটে সরিষার তেল মাখিয়ে রাখুন।

নাড়তে নাড়তে যখন দেখবেন আমসত্ত্বের মিশ্রণ খুন্তির সঙ্গে একেবারে লেগ থাকবে বা আঁঠালোভাব হবে; তখন নামিয়ে নিন। এবার প্যান থেকে প্লেটে ঢেলে নিন। প্লেটটি ধরে একটু ঘুরিয়ে নিন, যাতে যাতে সমানভাবে ছড়ায়।

এবার কড়া রোদে রেখে টানা ২দিন শুকিয়ে নিতে হবে। ২দিন পর দেখবেন আমসত্ত্বের রং অনেকটা কালচে খয়েরি হয়ে গেছে। এরপর ছুরি দিয়ে কেটে একটি কাচের পাত্রে সংরক্ষণ করুন। দীর্ঘদিন ভালো রাখতে মাঝে মধ্যে রোদে দিতে হবে আমসত্ত্ব।

জবা ফুলের তেলেই চুল হবে ঘন ও লম্বা

0

লম্বা ও ঘন চুল সবাই পেতে চায়। এজন্য যদিও বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত চুলের যত্ন নিলেই আপনি পাবেন লম্বা ও ঘন চুল। আপনি যদি ঘরে বসেই চুল লম্বা ও ঘন করতে চান তাহলে ব্যবহার করতে পারেন জবা ফুলের তেল।

যুগ যুগ ধরে চুল পড়া কমাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে জবা ফুল। এটি সহজলভ্য এবং বিস্ময়কর গুণসমৃদ্ধ। জবা শুধু একটি ফুলই নয়, এতে আছে হাজারো ওষুধিগুণ। বিশেষ করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে জবা ফুল।

জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজির এক গবেষণা অনুসারে, জবা ফুল ব্যবহারে চুলের ফলিকল বাড়ায় টাক সমস্যার সমাধান হতে পারে। জবা ফুলে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো কেরাটিন নামে একটি স্ট্রাকচারাল প্রোটিন তৈরি করে।

কেরাটিন চুলের গোড়া মজবুত রাখে। সোসঙ্গে চুলে পর্যাপ্ত কেরাটিন থাকলে ভেঙে পড়া থেকেও রক্ষা করে। জবা ফুল এবং পাতায় প্রচুর পরিমাণে মিউসিল থাকে, যা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

তাই চুলের বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করুন জবার তেল। এটি আপনি ঘরেই তৈরি করে নিতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। জেনে নিন তৈরি করবেন কীভাবে-

এজন্য প্রয়োজন হবে ১ কাপ নারকেল তেল, ৮টি জবা ফুল ও ৮টি জবা পাতা। প্রথম জবা ফুল ও পাতাগুলো ভালো করে ধুয়ে মিহি করে বেটে নিন। এবার এক কাপ নারকেল তেল গরম করে এতে পেস্ট যুক্ত করুন।

মিশ্রণটি কয়েক মিনিট চুলায় হালকা আঁচে গরম করুন। তারপরে ঠান্ডা করার জন্য এটি একপাশে রেখে দিন। তৈরি হয়ে গেলে জবা ফুলের তেল বা হিবিস্কাস অয়েল। এটি ব্যবহারের জন্য এখন প্রস্তুত!

এটি দিয়ে আপনার মাথার ত্বকে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসাজ করুন এবং এটি প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল এবং মাথার ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

নারকেল তেলের সঙ্গে অভি অয়েল ও আমন্ড অয়েল মিশিয়েও জবার তেল তৈরি করতে পারেন। এতে আরও উপকারিতা পাবেন। জবা ফুলের তেল তৈরির পর এটি কাচের পাত্রে শীতল এবং শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করুন।

এই তেল সপ্তাহে অন্তত একবার চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করুন। তেল ব্যবহারের পর একটি গরম তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। এর ফলে আপনার মাথার ত্বকে বন্ধ ছিদ্রগুলো খুলে যাবে এবং তেলের পুরো পুষ্টি চুল শোষণ করবে।

সূত্র: হেলথ শটস

ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাসের লক্ষণ কী?

0

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক সম্প্রতি ভারতের চারটি রাজ্যে মহামারি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আতঙ্কের কয়েক সপ্তাহ পরে এখন আবার হোয়াইট ফাঙ্গাস বা সাদা ছত্রাকে আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, হোয়াইট ফাঙ্গাস ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক। তাই আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিলম্ব হলে মৃত্যুও হতে পারে। এ ছত্রাক সংক্রমণের বিষয়টি নতুন নয়। কালো এবং সাদা উভয় ছত্রাকই শ্লেষ্মাজনিত কারণে হয়ে থাকে, যা এরই মধ্যে আমাদের পরিবেশে বিদ্যমান।

হোয়াইট ফাঙ্গাস কী?

হোয়াইট ফাঙ্গাস বা সাদা ছত্রাক বেশি বিপজ্জনক। কারণ এটি ফুসফুসের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে এবং মস্তিষ্ক, শ্বসনতন্ত্র, পাচনতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কী?

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাকও হলো শ্লেষ্মাজাতীয় সংক্রমণ। কালো ছত্রাক মুখ, নাক, চোখের কক্ষপথ এমনকি মস্তিষ্ককেও প্রভাব ফেলতে পারে। কালো ছত্রাক শরীরে প্রবেশ করলে দৃষ্টিশক্তি কমায়। হোয়াইট ফাঙ্গাসের মতো এটিও ফুসফুসে ছড়িয়ে যেতে পারে।

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস, দিল্লির (এআইআইএমএসএইমস) পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়ার জানান, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণের ফলে ব্ল্যাক বা হোয়াইট দুই ছত্রাকের আক্রমণই হতে পারে।

হোয়াইট ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা?

হোয়াইট ফাঙ্গাস এমন ব্যক্তিদের আক্রমণ করে; যারা ইমিউনোকম্প্রেসড, অর্থাৎ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম আছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই ছত্রাক সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগটি সংক্রামক নয়, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষদেরকে বেশি আক্রমণ করে।

অনেকটা করোনাভাইরাসের মতোই হোয়াইট ফাঙ্গাসের জীবাণুও ছড়িয়ে যেতে পারে। যেমন- আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নেওয়া বা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ছত্রাকের জীবাণু। এমনকি ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি যারা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড গ্রহণ করছেন; তাদের হোয়াইট ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা?

ডায়াবেটিস রোগী, কোভিড রোগী এবং দীর্ঘদিন স্টেরয়েড গ্রহণ করেন এমন ব্যক্তিদের বেশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। এমনকি দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকলেও কালো ছত্রাকের ঝুঁকি বাড়ে।

হোয়াইট ফাঙ্গাসের লক্ষণ

হোয়াইট ফাঙ্গাস বা সাদা ছত্রাকের লক্ষণগুলো অনেকটা করোনা উপসর্গের মতোই। ফুসফুসে প্রদাহ, বুকে ব্যথা, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এমনকি ফুলতেও পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ

সমীক্ষা দেখা গেছে, করোনা রোগীরাই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কালো ছত্রাক সংক্রমণের ফলে নাকের রং বদলে যাওয়া, চোখে কম দেখা, মুখের একপাশে ব্যথা, দাঁত ব্যথা, বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

গুরুতর অবস্থায় কাশির সঙ্গে রক্তও বের হতে পারে। সময় মতো হাসপাতালে না নিলে রোগী এই সংক্রমণে মারাও যেতে পারেন

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সকালে খালি পেটে আমলকি খেলে সারবে যেসব রোগ

0

একটি মাঝারি আকারের কমলার চেয়েও ছোট্ট একটি আমলকিতে বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এমনকি ডালিমের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেসন্ট আছে- এমনই মত বিজ্ঞানীদের। হাজারো পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল হজমশক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে।

আয়ুর্বেদ মতে, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকরী আমলকি। এক আমলকির আছে হাজারো গুণ। বার্ধক্য প্রতিরোধে, চুল ঘন ও লম্বা করতে এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে এটি। আমলকি অন্যতম টনিক। ত্বক উজ্জ্বল করে, রক্তকে বিশুদ্ধ করতে এবং চোখের দৃষ্টিও উন্নত করতে সহায়তা করে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, খালি পেটে আমলকি খেলে বেশ কিছু রোগ থেকে মুক্তি মেলে। কাঁচা, আমলকির চাটনি বা মিছরিও খেতে পারেন। তবে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি করে কাঁচা আমলকি খেলেই রক্ষা পাবেন কঠিন সব রোগ-ব্যাধি থেকে। জেনে নিন যেসব রোগ থেকে বাঁচবেন নিয়মিত আমলকি খেলে।

সর্দি-কাশি প্রতিরোধে: আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর ফলে বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণ থেকে রক্ষা মেলে। সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে বাঁচতে দিনে দুই চা চামচ আমলকির গুঁড়ো সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ৩-৪ বার পান করুন। দেখবেন, দ্রুত স্বস্তি মিলবে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকির ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। প্রতিদিন আমলকি খেলে চোখের ছানির সমস্যা বা চোখের ফোলাভাব দূর করে। পাশাপাশি লালচে চোখ, চুলকানি এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যায় কমায়।

মেদ কমায়: ওজন নিয়ন্ত্রণে আমলকি খুবই কার্যকরী। আমলকি নিয়মিত সেবনকারীদের অনেকরই মত, খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানিতে আমলার গুঁড়ো বা রস মিশিয়ে পান করলে পেট ভরে যায় এবং কম খাওয়া হয়। এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমলকি বিপাককেও বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে অতিরিক্ত ওজন কমতে শুরু করে। আমলাকিতে উচ্চমাত্রায় ফাইবার এবং ট্যানিকের মতো অ্যাসিড আছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়। শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির ফলে আপনার ওজন দ্রুত কমবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: আমলকির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্ট বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগ অক্সিডেটিভ ক্ষতির কারণে হয়।

যখন দেহের কোষগুলো অক্সিজেন ব্যবহার করে; তখন তারা ফ্রি র্যাডিক্যালস নামে ক্ষতিকারক উপজাতগুলো ফেলে দেয়। আমলকিতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এজেন্ট আছে। যা এই ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়।

চুল সুন্দর করে: আমলকি পাতার মতো আমলকিও চুলের জন্য কার্যকরী এক টনিক। এটি চুল পড়া বন্ধ করে। খুশকি রোধ করে, চুলের ফলিকেলগুলো শক্তিশালী করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। যার ফলে চুলের বৃদ্ধি ঘটে।

আমলকি একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে। আমলকির হেয়ারপ্যাক ব্যবহারের ফলে চুল হয় ঝলমলে, কোমল আর শক্তিশালী। নিয়মিত আমলার তেল ও হেনাতে আমলা গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারে।

ত্বকের যত্নে: আমলকিতে অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য আছে। প্রতিদিন সকালে মধুর সঙ্গে আমলকির রস পান করলে দাগহীন, স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল ত্বক পাবেন।

কোলেস্টেরল দূর করে: আমলকি নিয়মিত গ্রহণের ফলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল দূর হয়। ইনসুলিন উৎপাদন বাড়ায় আমলকি। ফলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমে। রক্তচাপ বাড়তি হলেও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আমলার রস পান করলে রক্তচাপের স্তর নিয়ন্ত্রণে আসবে দ্রুত।

ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়: জয়েন্টে ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় দুর্দান্ত কাজ করে আমলকি। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য শারীরিক বিভিন্ন প্রদাহ থেকে মুক্তি দেয়।

আমলা কীভাবে খাবেন?

সবচেয়ে বেশি উপকার মিলবে তাজা আমলার রস পান করলে। তবে আমলকির টক ও তেঁতো স্বাদের জন্য যদি রস খেতে না পারেন তাহলে পানির সঙ্গে আমলকির গুঁড়ো মিশিয়ে পান করবেন।

এ ছাড়াও আমলকি কেটে ছোট ছোট টুকরো করে অল্প লবণের সঙ্গে মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে রেখে দিন। এটি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে একটি শুকনো পাত্রে সংরক্ষণ করুন। মুখশুদ্ধি হিসেবে খেতে করতে পারেন এটি।

সূত্র: হেলদিফাইমি

পাকা আমের সুস্বাদু পায়েস তৈরির রেসিপি

0

বাজারে এখন পাকা আম সহজলভ্য। পাকা আম দিয়ে বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা যায়। এর মধ্যে পাকা আমের পায়েস অন্যতম।

খাওয়ার পর কিংবা অতিথি আপ্যায়নে মিষ্টান্ন হিসেবে পায়েসের চল আছে সবার ঘরেই। সাধারণত দুধ-চালের মিশ্রণেই তৈরি করা হয় পায়েস তবে আমের পায়েস তৈরি করতে চাল কম আম-দুধ বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। তাই অত্যাধিক সুস্বাদু হয় এই পায়েস। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক পাকা আমের পায়েস তৈরির রেসিপি-

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে চাল ধুয়ে পানিতে ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে রাখুন। এবার পানি ঝরিয়ে চাল ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন।

সামান্য পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করলে মিহি পেস্ট হবে। এবার একটি প্যানে ঘি গরম করে নিন। ঘি গরম হলে দুধ দিয়ে নাড়তে থাকুন।

দুধ ফুটতে শুরু করলে ব্লেন্ড করা চালের গুঁড়ো ও জাফরান দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে চিনি ও গোলাপজল মিশিয়ে দিন।

এরপর কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে রান্না করুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে দিন। এখন এই মিশ্রণে ব্লেন্ড করা আম মিশিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেলো সুস্বাদু আমের পায়েস।

সামান্য ঠান্ডা হলে ফ্রিজে ২ ঘণ্টা রেখে পরিবেশন করেন ঠান্ডা ঠান্ডা পাকা আমের পায়েস। ছোট-বড় সবাই খাওয়ার পর ডেজার্ট হিসেবে চেটেপুটে খাবে এই পায়েস।

বিবাহিত জীবনে আপনি সুখী নন বুঝবেন যেভাবে

0

দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন থাকবেই। বিশেষ করে সব দম্পতিদের মধ্যেই একটু-আধটু কলহ, মান-অভিমান থাকেই। তবে হিংসা, সন্দেহ এবং ক্ষোভের কারণে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে।

তারপরও দুই পরিবার ও সমাজের মানুষের কথা ভেবে দু’জন মানুষ শত অশান্তি স্বত্ত্বেও মিলেমিশে সব ভুলে আবারও সংসার করে। অনেকেই দাম্পত্য কলহ এড়াতে নিজের মনেই সব অভিমান ও অভিযোগ পুষে রাখেন।

একদিকে সঙ্গী সম্পর্কে খারাপ মন্তব্যও করতে পারেন না আবার তার মুখোমুখিও হতে পারেন না। সাংসারিক জীবনের মাঝামাঝিতে এসে তাই তো অনেকেই বলেন, আমি বোধ হয় সুখী নয়! আপনি দাম্পত্য জীবনে সুখী কি-না তা বুঝে নিতে কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে নিন-

>> আপনার সঙ্গী কি সবসময় আপনাকে অন্য মানুষের সঙ্গে তুলনা করেন? কিংবা আপনি কি তার সঙ্গে কারও তুলনা করেন? কারো সঙ্গে তুলনা করার মানসিকতা খুবই খারাপ। প্রত্যেক মানুষই তার নিজের মতো করে ভিন্ন। সবারই ভিন্ন ব্যক্তিসত্ত্বা আছে।

>> সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটাতে যদি আপনার অস্বস্তি হয়; তাহলে বুঝবেন আপনাদের মধ্যে ভালোবাসা কমতে শুরু করেছে। একজন সময় কাটাতে চাইছেন কিন্তু অন্যজন সেই সময়টা দিতে চাইছেন না এমনটি হলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না।

>> ভালোমন্দ সবকিছুই প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে হয়। তবে সঙ্গী যদি আপনার ভালো খবরে খুশি না হন কিংবা বাস্তবতা বুঝতে না চান; তাহলে বুঝবেন কোথাও একটা সমস্যা আছে।

>> যৌনতা ছাড়া কোনো সম্পর্কই সম্পূর্ণ হয় না। যদি দেখেন প্রথম থেকেই দাম্পত্য জীবনে যৌনতায় ঘাটতি আছে; তাহলে বুঝবেন সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেনে নেওয়া যাবে না।

>> আপনারা কি সবসময় ঝগড়া করেন? দু’জনের মধ্যকার বোঝাপোড়া ও মতের অমিল হলে ঝগড়া-বিবাদ চলতেই থাকবে। তাই একজন আরেকজনকে বুঝুন এবং সমস্যার সমাধান করুন। যদি তাতেও কাজ না হয় তাহলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন।

>> একই ছাদের তলায় থেকেও কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছেন না কিংবা এড়িয়ে চলছেন- এমনটি হলে সেই সম্পর্ক টেনে নেওয়া কঠিন। এতে দূরত্ব বেড়ে যায়। এর চেয়ে নিজেদের মানসিক শান্তি কীভাবে বজায় রাখবেন; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

শরিফুলের পর মোস্তাফিজ-সাকিব

0

২৪৭ রানের লক্ষ্য। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে খুব একটা সহজ লক্ষ্য নয়। তবুও দৃঢ়তা দেখানো প্রয়োজন বাংলাদেশের বোলারদেরই। সে লক্ষ্যে আপাতত বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে টাইগাররা।

দুই পেসার শরিফুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বল হাতে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন স্পিনার সাকিব আল হাসানও। যার ফলে স্কোরবোর্ডে ৭১ রান যোগ করতেই তিনটি উইকেটের পতন ঘটেছ সফরকারী লঙ্কানদের।

এ রিপোর্ট লেখার সময় শ্রীলঙ্কার রান ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৩। ১৪ রান নিয়ে কুশল মেন্ডিস এবং ১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। জয়ের জন্য এখনও প্রয়োজন ১৭৪ রান।

২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর লঙ্কানদের ২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম। অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে। ১৪ রান করে আউট হন পেরেরা। সে সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে অভিষেক উইকেট নিয়ে নিলেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ২৯ রানের জুটি গড়েন দানুসকা গুনাথিলাকা এবং পাথুম নিশাঙ্কা। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন গুনাথিলাকা। ২৪ রান করে ফিরে যান তিনি।

দলীয় ৭১ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দেন পাথুম নিশাঙ্কা। তিনি করেন ২০ রান।

মিরাজ-সাকিবে দিশেহারা লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ

0

প্রথম ম্যাচেও বল হাতে দুর্নিবার হয়ে উঠেছিলেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার তার ঘূর্ণির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাকিব আল হাসানের অর্থোডক্স ঘূর্ণি। দুই পেসার মোস্তাফিজ আর শরিফুল যে সূচনাটা করে দিয়েছেন, সেটাকে টেনে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখাচ্ছেন মিরাজ-সাকিব।

২৪৭ রানের লক্ষ্য। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে খুব একটা সহজ লক্ষ্য নয়। তবুও দৃঢ়তা দেখানো প্রয়োজন বাংলাদেশের বোলারদেরই। সে লক্ষ্যে আপাতত বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে টাইগাররা।

দুই পেসার শরিফুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বল হাতে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন স্পিনার সাকিব আল হাসান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। যার ফলে স্কোরবোর্ডে ১১৪ রান যোগ করতেই ৭টি উইকেটের পতন ঘটেছ সফরকারী লঙ্কানদের।

এ রিপোর্ট লেখার সময় শ্রীলঙ্কার রান ৩৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪। ১৪ রান নিয়ে আশেনা বান্দারা এবং ০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ইসুরু উদানা। জয়ের জন্য এখনও প্রয়োজন ১৩২ রান। হাতে আছে আর মাত্র ৩ উইকেট। এরই মধ্যে ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। সাকিব এবং মোস্তাফিজুর রহমান নিয়েছে ২টি করে উইকেট।

২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর লঙ্কানদের ২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম। অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে। ১৪ রান করে আউট হন পেরেরা। সে সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে অভিষেক উইকেট নিয়ে নিলেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ২৯ রানের জুটি গড়েন দানুসকা গুনাথিলাকা এবং পাথুম নিশাঙ্কা। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন গুনাথিলাকা। ২৪ রান করে ফিরে যান তিনি।

দলীয় ৭১ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দেন পাথুম নিশাঙ্কা। তিনি করেন ২০ রান। উইকেট যে পড়া শুরু হলো এরপর নিয়মিত বিরতিতে পড়ছেই।

৭৭ রানের মাথায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কুশল মেন্ডিসকে বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ বলে ১৫ রান করেন তিনি। কুশল মেন্ডিস রিভিউ নিয়েছিলেন বাঁচার আশায়। কিন্তু আল্ট্রা এডজ করে দেখা গেলো ব্যাটে লাগেনি। বল সামনের প্যাডে আঘাত করে এবং সেটা ছিল পুরো মিডল স্ট্যাম্প বরাবর। আম্পায়ারের আঙ্গুল তুলতে কোনো দ্বিধা হয়নি।

ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও এলবিডব্লিউর শিকার হন সাকিব আল হাসানের হাতে। ২১ বলে ১০ রান করেন তিনি। ফিরে যান দলীয় ৮৯ রানের মাথায়। ১০৪ রানের মাথায় ফেরেন দাসুন সানাকা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। মিডউইকেটে ক্যাচটি ধরতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি রিয়াদকে।

ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ফিরে যান সেই মিরাজের বলেই। সরাসরি বোল্ড হয়ে। ১৪ বলে ৬ রান করেন তিনি। ১১৪ রানের মাথায় পড়ে সপ্তম উইকেট। ১১৬ রানের মাথায় ফিরে যান আসেন বান্দারা। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তিনি ক্যাচ দেন মিডউইকেটে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১১৬ রানে বিদায় নেয় অষ্টম উইকেট।

এরপর ৩৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে পতন ঘটে নবম উইকেটের। তার বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লক্ষণ সান্দাকান।

নতুন লক্ষ্য, ২ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ১১৯ রান

0

বৃষ্টি বন্ধ হলো। তৃতীয়বার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ওয়ানডের শেষ মুহূর্তের খেলা। সময় গড়িয়ে যাওয়ার ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে অসম্ভব এক লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দিল ক্রিকেটের বৃষ্টি আইন। এখন আর মাত্র দুই ওভার ব্যাট করতে পারবে তারা। তাতে করতে হবে ১১৯ রান।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লঙ্কানদের সামনে মোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ৪০ ওভারে ২৪৫ রান। এরই মধ্যে খেলা হয়েছে ৩৮ ওভার। লঙ্কানরা করেছে কেবল ১২৬ রান।

রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আবার শুরু হবে খেলা। অর্থাৎ ৪৫ মিনিটের বিরতি দিয়ে শুরু হচ্ছে তৃতীয়বার বৃষ্টির পর খেলা। প্রথমবার সময় নিয়েছিল ২৫ ও দ্বিতীয়বার ৩৫ মিনিট। এবার বৃষ্টি সময় নিল ৪৫ মিনিট।

বাংলাদেশের জয়ের মাঝে ব্যবধান ছিল আর মাত্র একটি উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ আর মোস্তাফিজুর রহমান যেভাবে বোলিং করছিলেন, তাতে দ্রুতই জয় এসে যাওয়ার কথা। কিন্তু বিধিবাম। আবারও বৃষ্টি নামলো মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ফলে শেষ মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে খেলা।

বৃষ্টি নামার সময় শ্রীলঙ্কার রান ৩৮ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৬। ৪ রান নিয়ে ইসুরু উদানা এবং ৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন দুশমন্তে চামিরা। জয়ের জন্য এখনও প্রয়োজন ১২১ রান। হাতে আছে আর মাত্র ১ উইকেট।

এর আগে বিকালে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় দুবার বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়েছিল। প্রথমবার ২৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হলে ৭ মিনিটে ১৪ বল হওয়ার পর আবারও বৃষ্টি নামে। এরপর ৩৫ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। দ্বিতীয়বার খেলা শুরু হওয়ার পর আর বৃষ্টি নামেনি। অবশেষে একেবারে শেষ হওয়ার মুহূর্তে এসে আবার বৃষ্টি নামলো।

প্রথম ম্যাচেও বল হাতে দুর্নিবার হয়ে উঠেছিলেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার তার ঘূর্ণির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাকিব আল হাসানের অর্থোডক্স ঘূর্ণি। দুই পেসার মোস্তাফিজ আর শরিফুল যে সূচনাটা করে দিয়েছেন, সেটাকে টেনে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখাচ্ছেন মিরাজ-সাকিব।

২৪৭ রানের লক্ষ্য। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে খুব একটা সহজ লক্ষ্য নয়। তবুও দৃঢ়তা দেখানো প্রয়োজন বাংলাদেশের বোলারদেরই। সে লক্ষ্যে আপাতত বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে টাইগাররা।

দুই পেসার শরিফুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বল হাতে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন স্পিনার সাকিব আল হাসান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে স্কোরবোর্ডে ১১৪ রান যোগ করতেই ৭টি উইকেটের পতন ঘটেছ সফরকারী লঙ্কানদের।

২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর লঙ্কানদের ২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম। অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে। ১৪ রান করে আউট হন পেরেরা। সে সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে অভিষেক উইকেট নিয়ে নিলেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ২৯ রানের জুটি গড়েন দানুসকা গুনাথিলাকা এবং পাথুম নিশাঙ্কা। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন গুনাথিলাকা। ২৪ রান করে ফিরে যান তিনি।

দলীয় ৭১ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দেন পাথুম নিশাঙ্কা। তিনি করেন ২০ রান। উইকেট যে পড়া শুরু হলো এরপর নিয়মিত বিরতিতে পড়ছেই।

৭৭ রানের মাথায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কুশল মেন্ডিসকে বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ বলে ১৫ রান করেন তিনি। কুশল মেন্ডিস রিভিউ নিয়েছিলেন বাঁচার আশায়। কিন্তু আল্ট্রা এডজ করে দেখা গেলো ব্যাটে লাগেনি। বল সামনের প্যাডে আঘাত করে এবং সেটা ছিল পুরো মিডল স্ট্যাম্প বরাবর। আম্পায়ারের আঙ্গুল তুলতে কোনো দ্বিধা হয়নি।

ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও এলবিডব্লিউর শিকার হন সাকিব আল হাসানের হাতে। ২১ বলে ১০ রান করেন তিনি। ফিরে যান দলীয় ৮৯ রানের মাথায়। ১০৪ রানের মাথায় ফেরেন দাসুন সানাকা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। মিডউইকেটে ক্যাচটি ধরতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি রিয়াদকে।

ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ফিরে যান সেই মিরাজের বলেই। সরাসরি বোল্ড হয়ে। ১৪ বলে ৬ রান করেন তিনি। ১১৪ রানের মাথায় পড়ে সপ্তম উইকেট। ১১৬ রানের মাথায় ফিরে যান আসেন বান্দারা। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তিনি ক্যাচ দেন মিডউইকেটে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১১৬ রানে বিদায় নেয় অষ্টম উইকেট।

এরপর ৩৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে পতন ঘটে নবম উইকেটের। তার বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লক্ষণ সান্দাকান।